
শারীরিক অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুস্রাবের মতো অপারগতার কারণে অনেক সময় রমজানের রোজা কাজা হয়ে যায়। মহান আল্লাহ দয়া করে এই রোজাগুলো পরবর্তী সময়ে আদায়ের সুযোগ দিয়েছেন।
বিশেষ করে রমজানের পূর্ববর্তী মাস শাবানে এসে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এত দেরিতে বা শাবান মাসে কাজা রোজা আদায় করা যাবে কি না।
যেকোনো কারণে রমজানের রোজা ছুটে গেলে পরবর্তী রমজান আসার আগ পর্যন্ত বছরের যেকোনো সময় তা আদায় করা যায়। তাতে প্রায় ১১ মাস সময় থাকে। শওয়াল মাস থেকে শুরু করে শাবান মাস পর্যন্ত এই সুযোগ অবারিত।
আল্লাহ বলেছেন, “অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৪)
শাবান মাস হলো রমজানের ঠিক আগের মাস। যদি কেউ সারা বছর ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে বিগত বছরের রোজা আদায় করতে না পারেন, তবে শাবান মাসই হলো তাঁর জন্য শেষ সুযোগ। শাবান মাসে কাজা রোজা রাখাতে শরয়ি কোনো বাধা নেই।
আয়েশা (রা.) থেকে এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমার ওপর রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকত, যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৪৬)
হাদিস বিশারদগণের মতে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর খেদমতে ব্যস্ত থাকার কারণে আয়েশা (রা.) সারা বছর রোজা রাখতে পারতেন না, তাই তিনি শাবান মাসে সেই কাজাগুলো পূর্ণ করতেন। সুতরাং যাদের রোজা বাকি আছে তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য সুযোগ।
যদি কোনো ব্যক্তি গত রমজানে অসুস্থ থাকার কারণে রোজা রাখতে না পারেন এবং সেই অসুস্থতা পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে তবে তাকে বর্তমান রমজানের রোজা রাখতে হবে।
গত বছরের কাজা রোজাগুলো তাঁর জিম্মায় ‘বকেয়া ঋণ’ হিসেবে থেকে যাবে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি সেগুলো আদায় করবেন। এক্ষেত্রে কোনো গুনাহ হবে না, কারণ আল্লাহ মানুষের সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
শাবান মাস শুরু হওয়ার পর প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিগত রমজানের কোনো রোজা বাকি আছে কি না তা যাচাই করা।
যদি বাকি থাকে, তবে আর দেরি না করে শাবানের দিনগুলোতেই তা শেষ করা উচিত। কারণ এটিই হলো রমজানের প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ সময়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।